PRB Post

১০:৪৯ AMআন্তর্জাতিক

নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন

PRB Post

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৪৯ AM2 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন

 

উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আজ শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের পথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্চপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করেছে। সেখান থেকে বিশ্বনেতাদের গাড়িবহরের চলাচল এবং রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার রাতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরাও সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও শীর্ষ বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সম্মেলনে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ ও ১০টি অংশীদার দেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের নেতারা অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আগামীকাল রবিবারও সম্মেলনের কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হয় ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বর্তমানে জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের যাত্রা শুরু হয় পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বাইরে বিকল্প অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে। তবে দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে কার্যক্রম চালালেও পশ্চিমা বিশ্বের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হিসেবে ব্রিকস কতটা কার্যকর হতে পেরেছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তাদের মতে, বিশ্বব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী করার ক্ষেত্রে ব্রিকসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠার পথে জোটটি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে তাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিকল্প বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন