বিশ্বকাপ জয়ের পর গড়া আর্জেন্টিনার সোনালি অধ্যায়ে এবার দেখা দিয়েছে পরিবর্তনের আভাস। লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত, তখন তার দীর্ঘদিনের সহকারী ওয়াল্টার স্যামুয়েলও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউরোপে এবার প্রধান কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরুর লক্ষ্য সাবেক এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, স্যামুয়েলের বিদায়ের বিষয়টি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) জানা ছিল। জাতীয় দলের সাথে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। স্কালোনি থাকুন বা না থাকুন, ২০২৭ সালে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফে আর থাকছেন না ৪৮ বছর বয়সী স্যামুয়েল।
২০১৮ সাল থেকে স্কালোনির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন স্যামুয়েল। কোচিং স্টাফে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল সেটপিস পরিকল্পনা। কর্নার ও ফ্রি-কিকের সময় খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং কৌশল নির্ধারণে তার বড় ভূমিকা ছিল।
আর্জেন্টিনার হয়ে সহকারী কোচ হিসেবে স্যামুয়েলের সময়টা ছিল সাফল্যে মোড়ানো। তার সময়ে দল জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং কাতার বিশ্বকাপ। ২০১৯ কোপা আমেরিকায় তৃতীয়ও হয়েছিল দল। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপেও কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন তিনি, যেখানে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়।
দীর্ঘদিন সহকারী হিসেবে কাজ করার পর এবার নিজের সামর্থ্য প্রধান কোচ হিসেবে যাচাই করতে চান স্যামুয়েল। আর্জেন্টিনার সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর ইউরোপের কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেয়ার লক্ষ্য তার। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাস প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নেবেন তিনি।
তবে স্যামুয়েলের বিদায়ের সাথে স্কালোনির ভবিষ্যৎকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচের চুক্তির মেয়াদও ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্কালোনি। ফলে তার চুক্তি নবায়ন হবে কি না, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
স্কালোনির অন্য দুই সহকারী পাবলো আইমার ও রবার্তো আয়ালার ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তারা আপাতত জাতীয় দলের কাঠামোর অংশ। তবে স্কালোনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনার সোনালি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্যামুয়েলের বিদায় শুধু একজন সহকারীর সরে দাঁড়ানো নয়; স্কালোনির যুগের কোচিং কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
