PRB Post

২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ PMঅন্যান্য

ওয়াইল্ড ৭০.৩ সিজন-৩-এর সফল সমাপ্তি, পূর্বাচলে অ্যাথলেটদের দারুণ লড়াই

PRB Post

২২ আগস্ট, ২০২৬ এ ১:০৫ PM3 মিনিট পড়া
আপডেট: ২২ আগস্ট, ২০২৬ এ ১:৩২ PM

অনলাইন ডেস্ক

ওয়াইল্ড ৭০.৩ সিজন-৩-এর সফল সমাপ্তি, পূর্বাচলে অ্যাথলেটদের দারুণ লড়াই

অ্যাথলেটদের অদম্য লড়াইয়ে মুখরিত রেস ডে | ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে রোমাঞ্চকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জনপ্রিয় মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট ‘ওয়াইল্ড ৭০.৩’ (WILD 70.3)-এর তৃতীয় সিজন। অদম্য জেদ, শারীরিক সক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো রেস ডে।

এবারের আসরে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলেটরা সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি ডিসিপ্লিনেই নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সাঁতারের প্রথম স্ট্রোক থেকে শুরু করে সাইকেলের গতিময় প্যাডেল এবং সবশেষে দৌড়ের প্রতিটি ধাপে নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রতিযোগীরা।

আয়োজকদের মতে, পূর্বাচলের মনোরম ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত এবারের আসরটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং অ্যাথলেটদের আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা এবং অসম্ভবকে জয় করার মানসিক শক্তির এক অনন্য পরীক্ষা।

রেস শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেট, স্বেচ্ছাসেবক এবং মাঠে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহ জোগানো সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি অ্যাথলেট যেভাবে মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এবারের সিজনকে স্মরণীয় করে তুলতে সবার অবদান অনস্বীকার্য।

আয়োজনটিকে সফল করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। এর মধ্যে ছুটি গ্রুপ ছিল ওয়াইল্ড ৭০.৩ সিজন-৩-এর অন্যতম স্পন্সর। আয়োজকরা প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্পন্সর, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, প্রতিযোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল ট্রানজিশন এরিয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া। ট্রায়াথলনে ট্রানজিশন এরিয়া হলো এমন একটি নির্ধারিত স্থান, যেখানে একজন অ্যাথলেট এক ডিসিপ্লিন থেকে অন্য ডিসিপ্লিনে পরিবর্তন করেন। দ্রুত ও সঠিক ট্রানজিশন মোট রেস টাইমে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

ওয়াইল্ড ৭০.৩-এর নিয়ম অনুযায়ী, সাইকেল চেক-ইনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের রেসের আগের দিন বাইক নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় চেক-ইন করতে হয়। রেসের দিন নির্ধারিত ট্রানজিশন এরিয়ায় বিব নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে সাইকেল রাখতে হয়।

সাঁতার শেষ হওয়ার পর ট্রানজিশন-১ বা টি-১ থেকে সাইক্লিং সেগমেন্ট শুরু হয়। এ সময় অ্যাথলেটদের নিজেদের নির্ধারিত র‍্যাক থেকে সাইকেল সংগ্রহ করে হেলমেট পরতে হয় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা পুষ্টি সামগ্রী সঙ্গে নিতে হয়। সাইকেল হাতে নিয়ে ট্রানজিশন এক্সিট পার হওয়ার পর নির্ধারিত মাউন্ট লাইনে গিয়ে সাইকেলে উঠতে হয়।

ওয়াইল্ড ৭০.৩-এর সাইক্লিং সেগমেন্টের মোট দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। প্রতি ল্যাপ ১৫ কিলোমিটার করে মোট ছয়টি ল্যাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রতিটি ল্যাপ শেষে নির্ধারিত ট্রানজিশন পয়েন্ট থেকে ইউ-টার্ন বা লুপ টার্ন সম্পন্ন করতে হয়।

সাইক্লিং শেষে শুরু হয় ট্রানজিশন-২ বা টি-২। এ সময় অ্যাথলেটদের নির্ধারিত ডিসমাউন্ট লাইনের আগেই সাইকেল থেকে নামতে হয়। এরপর সাইকেল হাতে ট্রানজিশন এরিয়ায় প্রবেশ করে নির্ধারিত র‍্যাকে রাখতে হয়। সাইকেল র‍্যাকে রাখার পর হেলমেট খুলে রানিং জুতো পরে দৌড় শুরু করতে হয়।

শেষ ধাপে অ্যাথলেটদের ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। এই দূরত্ব অতিক্রম করেই কাঙ্ক্ষিত ফিনিশ লাইনে পৌঁছান প্রতিযোগীরা।

আয়োজকদের নির্দেশনায় ট্রানজিশন এরিয়ায় সাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্ধারিত র‍্যাকে সাইকেল রাখার আগে হেলমেট খোলা যাবে না এবং প্রত্যেক প্রতিযোগীকে নিজের নির্ধারিত র‍্যাক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ট্রানজিশন টাইম মোট রেস টাইমের অংশ হিসেবে গণনা করা হয়। চিপ টাইমিং পয়েন্ট এড়িয়ে গেলে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।

রেসের আগে জুতো, হেলমেট, বিব নম্বর, নিউট্রিশন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, দ্রুত ও সুশৃঙ্খল ট্রানজিশন প্রতিযোগীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সহায়তা করে।

নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভবিষ্যতে আবারও মাঠে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ওয়াইল্ড ৭০.৩ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন