PRB Post

২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৯ AMসারাদেশ

খান জাহান আলী মাজারের ‘ধলাপাহাড়’ এখন চকরিয়ার সাফারি পার্কে

PRB Post

২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ৯:০৯ AM2 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

খান জাহান আলী মাজারের ‘ধলাপাহাড়’ এখন চকরিয়ার সাফারি পার্কে

 

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘী থেকে সরিয়ে নেওয়া ‘ধলাপাহাড়’ নামের কুমিরটি এখন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রয়েছে।

গত ১২ আগস্ট খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আনা হয়। রোববার (২৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম।

তিনি বলেন, ‘ধলাপাহাড়’কে বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। পার্কের দিঘিতে সপ্তাহে একদিন তাকে খাবার দেওয়া হয়। এখানে আনার পরদিন কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছিল। এরপর আর তাকে খাবার খেতে দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। নতুন পরিবেশে এসে কিছুদিন খাবার না খাওয়া তাদের জন্য স্বাভাবিক। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় কুমিরের শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম। শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকেও তারা দীর্ঘ সময় শক্তি পেতে পারে। তাই জোর করে খাবার দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘীতে আনা ছয়টি কুমিরের মধ্যে এটিই বর্তমানে জীবিত থাকা শেষ কুমির।

এর আগে গত ১ জুন রাতে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমা মারা যায়। পরদিন ভোরে দিঘির পানিতে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়। এর আগে একটি কুকুরও কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঐতিহাসিকদের মতে, দিঘী খননের পর খান জাহান আলী (রহ.) সেখানে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন বলে প্রচলিত আছে। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সতীশ চন্দ্র মিত্রের ইতিহাস গ্রন্থেও ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি কুমিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে খানজাহান আলী (রহ.)-এর আমলের কুমিরের বংশধারা ২০১৫ সালে শেষ হয়।

ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘ধলাপাহাড়’ নামে শতবর্ষী একটি কুমির মারা যায়। পরে দিঘিতে কুমিরের সংখ্যা কমে আসায় ২০০৪ সালের ২৬ জুন ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি মিঠাপানির কুমির এনে সেখানে অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কুমির মারা যায় এবং কয়েকটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ‘ধলাপাহাড়’ নামের মাদি কুমিরটিই দিঘিতে টিকে ছিল।

সর্বশেষ শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুমিরটিকে দিঘী থেকে সরিয়ে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এখন তার নতুন ঠিকানা হয়েছে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক।

 

আরও পড়ুন