PRB Post

২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৩ AMআন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতিতে রাশিয়া

PRB Post

২৯ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:১৩ AM3 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতিতে রাশিয়া

 

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে গড়ে ৩৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া। বিপরীতে নতুন করে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ দিচ্ছে দেশটি। ফলে প্রতি মাসে রুশ বাহিনীতে প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নতুন সেনা নিয়োগ পাচ্ছে। সে হিসাবে মাসে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে প্রতি মাসে গড়ে ৩৬ হাজার সেনা হতাহত বা যুদ্ধের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার সেনার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, নিয়মিত সেনা ঘাটতির কারণে রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছেন। এ কারণে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তার দাবি, জুলাইয়ের শুরু থেকে রাশিয়া ইউক্রেনে ৩৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে কিয়েভের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মস্কো। আসন্ন শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটির জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা রাশিয়া করতে পারে বলেও ওই কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি পূরণে আরও সেনা নিয়োগের বিকল্প সীমিত হয়ে আসছে। নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়ার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তারা জানান, ২০২২ সালের শরতে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় সেনা সমাবেশের পর প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই দক্ষ কর্মী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেকে দেশে ফিরলেও দেশত্যাগীদের তুলনায় ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম ছিল।

এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে দেশটির জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও সহযোগিতা চেয়ে আসছে কিয়েভ।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরে চলতি সপ্তাহে কিয়েভ সফর করেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রুশ হামলা থেকে ইউক্রেনকে সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া একাধিকবার প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে। ইউক্রেনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে মস্কো।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার হুমকি বাস্তব হলেও তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী পুতিন এখনো ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে চান।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকে এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন