আইন পেশায় সফল হতে নবীন আইনজীবীদের অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি কিংবা শর্টকাটের পথ বেছে নিয়ে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা কঠোর ও স্বচ্ছ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।
তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখতে হবে।
নবীনদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশার শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকতেই পারে। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট।’ ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখে পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনপেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।
তিনি জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
